পুরোনো দিনের ৬টি অদ্ভুত পেশার কাহিনী

সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক প্রথা, খাদ্যাভাস ও জীবিকার্জনের পন্থা। পুরোনো দিনের মানুষ যেসব কাজ করে আয় করে জিবিকা নির্বাহ করতো তার অনেকগুলোই আজকের দিনে আর দেখতে পাওয়া যায় না । আজকের দিনের কিছু পেশা হয়ত আগামী কয়েক দশক পরে আর দেখা যাবে না । পুরোনো দিনের কিছু পেশার মাঝে কিছু কিছু পেশার কথা পড়ে যেমন বিস্ময়ে মুখ হাঁ হয়ে যায় ঠিক ।  তেমনি কিছু কিছু পেশার সম্পর্কে জানার পর হাসিও উঠতে পারে 😛
আবার কিছু কিছু পেশার কথা শুনলে আপনি নাক সিটকানো শুরু করবেন । পুরোনো দিনের অদ্ভুত কিছু পেশার গল্প নিয়েই লেখা হয়েছে আজকের  লেখাটি।

LINK-BOY (লিঙ্ক বয়)

রাতের বেলায় বাড়ি থেকে বাহিরে বের হলে রাস্তায় জ্বলা বিদ্যুতবাতি আমাদের পথ আলোকিত করে দেয়। বিশেষ করে সোডিয়াম বাতির কথা না বললেই না 😉 আর যদি কোনো কারণে লোডশেডিং হয় তবে টর্চ লাইট অথবা ফোনের টর্চলাইটের অপশন তো আছেই। তবে বিদ্যুতের এমন সহজলভ্যতার আগের জীবন কিন্তু অতটা সহজ ছিলো না। তখন রাতের বেলায় পথ চলতে গেলে অন্ধকার দূরীকরণে কাজ করতো ছোট ছেলেরা যাদের বলা হতো LINK-BOY (লিঙ্ক বয়)। হাতে একটি মশাল ধরে তারা পথচারীদের পথকে আলোকিত করে তুলতো, সাথে জুটতো সামান্য কিছু অর্থ। রাস্তায় বিদ্যুতবাতি আসার আগে ইংল্যান্ডে এ লিঙ্ক বয়দের দেখা মিলতো।

LINK-BOY
LINK-BOY
 KNOCKER-UP (নকার-আপ)

বর্তমান যুগে ঠিক সময় মত ঘুম থেকে ওঠার জন্য অ্যালার্মের সিস্টেমের (মোবাইল ফোন) কোনো বিকল্প নেই। আগের সময় এ জায়গায় ছিলো এলার্ম ঘড়ি। কিন্তু এলার্ম ঘড়ি আসার আগে মানুষ তাহলে সময়মতো ঘুম থেকে উঠতো কিভাবে? তখন আসলে অদ্ভুত এক পেশা ছিলো যার নাম ‘KNOCKER-UP (নকার-আপ কিংবা ‘নকার-আপার)’। নারী-পুরুষ উভয়েই এ পদ্ধতিতে জীবিকা নির্বাহ করতো। যে ব্যক্তির বাড়িতে যেদিন তাদের ডিউটি, সেদিন সেই বাড়িতে গিয়ে তার ঘুমানোর ঘরের জানালায় বড় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকতো একজন KNOCKER-UP (নকার-আপার)। গ্রাহক ঘুম থেকে উঠেছে নিশ্চিত করেই সে পরের গ্রাহকের দিকে ছুটতো 😛 বিনিময়ে তারা কিছু টাকা পেত ।

নোটঃ বর্তমান সময়ে এই কাজটি গফ এবং বফ করে 😛 😛 😛

KNOCKER-UP
KNOCKER-UP
Pin Setter (পিন সেটার)

১৯৩৬ সালে স্মিট যান্ত্রিক পিন সেটার উদ্ভাবনের আগে পর্যন্ত বোলিং পিনগুলো সাজাতে, পড়ে যাওয়া পিনগুলো সরাতে এবং বলটি খেলোয়াড়ের হাতে দিয়ে আসতে কম বয়সী ছেলেরা। এই কাজের জন্য নিযুক্ত ছোট ছেলেদের Pin Setter (পিন সেটার) বলা হতো 😛 একবার ভেবে দেখছেন কতটা অদ্ভুত 😛

Pin Setter
Pin Setter
Lector (লেক্টর)

অফিসে কাজ করতে করতে শ্রমিকদের মাঝে যাতে একঘেয়েমি কাজ না করে সেজন্য নিয়োগ দেয়া হতো লেক্টরদের (Lector) । তাদের কাজ ছিলো উচ্চস্বরে বিভিন্ন খবর এবং সাহিত্যকর্ম পড়ে যাওয়া। বর্তমান সময়ে Lector পেশাটি থাকলে সে নিশ্চয়ই ফেসবুক পোষ্টগুলো পড়ে শোনাতো 😛

লেক্টর
Lector
Milkman (মিল্ক-ম্যান)

ফ্রিজ আবিষ্কারের পুর্বে এই পেশাটি প্রচলিত ছিলো । দুধ যেহেতু দ্রুত সময়ে নষ্ট হয়ে যায় তাই এইটাকে বেশি সময় বাহিরে রাখা সম্ভব না । এই মিল্ক-ম্যানদের কাজ ছিলো সঠিক সময়ে দুধ আপনার বাসায় পৌছায় দেওয়া । ফ্রিজ আবিষ্কারের পরে এই পেশার বিলুপ্তি ঘটে ।

নোটঃ বিভিন্ন সিনেমাতে যদিও এই পেশাটি দেখা যায় । আর হ্যাঁ এই পেশাটি বাংলাদেশে এখনো আছে 😀 নামটা শুনে মাথায় প্রথমে সুপার-ম্যানের কথা মাথায় আসতেই পারে 😛

Milkman
Milkman
Rat Catcher (র‍্যাট ক্যাচার)

এখন বাজারে অনেক ধরনের ইদুর মারা বিষ কিংবা যন্ত্র পাওয়া যায় । টিভিতে এড দেখেন না!!! কিন্তু আগে তো আর এইসব ছিলো না । তখন এই জেরি 😛 মানে ইদুরদের মারা কাজ করতো র‍্যাট ক্যাচাররা । তারা নিষ্ঠার সাথে এই ইদুরদের মারা 😦  কাজটি করতো ।

নোটঃহ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো কি???

Rat Catcher
Rat Catcher

এই রকম আরো অনেক পেশা ছিলো যা এখন আর নেই । সেই সব পেশা গুলোর মাঝ থেকে এখানে কিছু লেখা হলো 🙂

তথ্যসূত্রঃ



 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s